২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ডালাসের স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি পরিণত হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিগত ও দলীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০ বছর পর সাক্ষাৎ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল সর্বশেষ ২০০৬ সালে। সেই ম্যাচে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে। তবে দুই দশক পর প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরো ও নেশন্স লিগে স্পেনের কাছে বারবার পরাস্ত হওয়া ফ্রান্স এবার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

পরিসংখ্যান ও শক্তির লড়াই

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অজেয় ফ্রান্স। টানা ছয় ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে আসা দিদিয়ের দেশমের দল নকআউট পর্বে কোনো গোলই হজম করেনি। আট গোল করে এমবাপ্পে বর্তমানে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ২০। যদিও মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন তিনি, তবে ফরাসি শিবির নিশ্চিত করেছে, স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামতে বাধা নেই তার।

অন্যদিকে, স্পেনের শক্তি তাদের রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। বেলজিয়াম ম্যাচে গোল না পেলেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে টানা ৩৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত স্পেন। তাদের মূল মন্ত্র—বল দখল ও দ্রুত প্রেসিং, যার বিপরীতে ফ্রান্স ভরসা রাখছে এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলের গতির ওপর।

আলোচনায় ইয়ামালের জন্মদিন

সেমিফাইনালের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ জুলাই ১৯ বছরে পা দেবেন লামিন ইয়ামাল। জন্মদিনের পরের দিনই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া ইয়ামালের জন্য হবে এক দারুণ অভিজ্ঞতার পরীক্ষা।

ফাইনালে ওঠার লড়াই

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য ফ্রান্সের। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার অপেক্ষায়। নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন ডালাসের মাঠের সেই মহারণের দিকে, যেখানে এমবাপ্পের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ইয়ামালের যৌবনের লড়াই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ভাগ্য।

জেএস