টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে নদীর তীরবর্তী মানুষদের। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।

পানি বাড়ার ফলে কুমিল্লার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু জমি প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষকরা। ফসল হারানোর শঙ্কায় অনেক কৃষক অপরিপক্ব সবজি ও ফসল আগাম কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দা আনাস রহমান জানান, গত বছরের বন্যায় তারা সর্বস্ব হারিয়েছিলেন, সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার বন্যার আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত।

২০২৪ সালের আগস্টে গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে স্থানীয়রা এখনো শিউরে ওঠেন। সেবার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে কয়েকশ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং কৃষি, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইছাপুরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, ‘গত বছরের বন্যা আমাদের জন্য ছিল এক ভয়ংকর অধ্যায়। খুব কষ্টে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আবারও বন্যা হলে আমাদের আর বাঁচার উপায় থাকবে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টায় গোমতীর পানি বিপৎসীমার (১১.৩০ মিটার) নিচে ৮.৫৯ মিটারে অবস্থান করছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পানি ৮.৯৩ মিটারে উঠলেও বর্তমানে তা কমতির দিকে। কুমিল্লার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে আছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি, ভয়ের কিছু নেই।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ পানির স্তর কিছুটা কম। জেলায় বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবুও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ব্যাপক পূর্বপ্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে।’

শুক্রবার সকাল থেকে কুমিল্লা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীর পানি আরও কমবে বলে প্রত্যাশা করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা এখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছেন, কখন পুরোপুরি দুর্যোগমুক্ত হবে এলাকা।

জেএস