চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই পাকিস্তানের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ও সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন এই বৈঠকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে প্রধান আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে—

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি।

জব্দকৃত সম্পদ: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার উপায়।

পারমাণবিক কর্মসূচি: তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সৃষ্ট চলমান সংকট ও এর সমাধান।

এই আলোচনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কাতার ও পাকিস্তানের নিরলস মধ্যস্থতায় এই আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। গত বুধবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং তারা আলোচনার ধারা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দেশটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রতিনিধিদলের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। খামেনির মৃত্যু-পরবর্তী এই সংকটময় সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এই আলোচনা কতদূর এগোবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

জেএস