পাটগ্রামে বকেয়া বেতন চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মাদরাসার এক ছাত্রীর বকেয়া বেতন চাওয়ায় শিক্ষকদের ওপর হামলা, মারধর ও কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ‘মারকাযুত তাকওয়া বালিকা মাদরাসা’র পরিচালক মো. ফয়সাল আহমদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ দুপুর ২:৪০ মিনিটের দিকে পাটগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহমানপুর এলাকায় অবস্থিত মারকাযুত তাকওয়া বালিকা মাদরাসার পরিচালক মো. ফয়সাল আহমদ ও সহকারী শিক্ষক হাফেজ মো. আব্দুর রহিম বকেয়া ফি আদায়ের জন্য বের হন। তারা মাদরাসার ছাত্রী মোছা. সাইমুন নাহার স্নেহার বকেয়া বেতন ও আনুষঙ্গিক ফি বাবদ সর্বমোট ৫,৫০০ টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার বাবা মো. সিরাজ উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘রাইচ মিল’-এ যান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাকা চাওয়ামাত্রই সিরাজ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের গালাগালি শুরু করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক হাফেজ মো. আব্দুর রহিম ঘটনাটি ভিডিও রেকর্ড করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আরাফাতসহ আরও কয়েকজন এতে যোগ দিয়ে দুই শিক্ষককে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে মাদরাসা পরিচালককে মিলের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা উদ্ধার পান। গুরুতর আহত অবস্থায় মাদরাসা পরিচালক মো. ফয়সাল আহমদকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় (ভর্তি রেজি. নং- ৬১/৩১৪৯১, তারিখ: ২৬/০৭/২০২৬)।
এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেম সমাজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে মূল অভিযুক্ত মো. সিরাজ উদ্দিন ও তার ছেলে ইয়াছিন আরাফাতসহ জড়িত সকলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাটগ্রামের আলেম সমাজ।
জেএস

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






