ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প দুটিতে মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যয় শেষে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃতপ্রায় খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ সচল রাখা এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, একসময় ৩ নম্বর কইচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দা খালটি প্রায় ভরাট হয়ে চাষযোগ্য জমিতে পরিণত হয়েছিল। পুনঃখননের ফলে খালটি আবারও তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে। প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখতে তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কইচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২০৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখননে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫ টাকা এবং নন-ওয়েজ খাতে ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯২২ টাকাসহ মোট ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৬ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

অন্যদিকে, সদর ইউনিয়নের কচুন্দরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২৯৭ জন শ্রমিক অংশ নেন। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখননের জন্য শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪৯ টাকা এবং নন-ওয়েজ খাতে ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৬ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আশিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউ