বিএনপি নেতার অবৈধভাবে গাছ কাটাঈশ্বরদীতে বিদ্যুতের ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন: ক্ষতিগ্রস্থ ২৬ পরিবার, আহত ১

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় মেরামতের নামে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কে থাকা লক্ষাধিক টাকা মূল্যের কয়েকটি মাঝারি আকারের মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে।
কাটা গাছ বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় একটি ট্রান্সফর্মার, যার ফলে ওই ট্রান্সফর্মারের আওতাধীন অন্তত ২৬টি বাড়ির ফ্রিজ, ফ্যান, টেলিভিশন, ওয়াইফাই রাউটার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনায় বৈদ্যুতিক স্পর্শে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা বক্কার সরদারের ছেলে ইয়ারুল সরদার (৩৫)। ঘটনার জেরে এলাকার শতাধিক পরিবার গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যে রূপপুর থেকে আসা কিছু লোক সুজানগর ঢালারচর বাঁধ সংলগ্ন পাকুড়িয়া এলাকায় সরকারি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে লাগানো বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের মেহগনি গাছ কেটে ফেলে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহিনুর রহমান স্বপন ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম লিপনসহ কয়েকজন সাহাপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী মোস্তাকের কাছে গাছগুলো বিক্রি করেন। এর মধ্যে তিনটি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি গাছ কাটার সময় বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে যায়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফর্মারটি বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ট্রান্সফর্মার মেরামতের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাদের প্রায় ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে জালাল সরদার, সাইফুল ইসলাম, ঝলক, রিপন, শিপন, বিপু, হায়াতুল্লাহ ও সজীবসহ অনেকে অভিযোগ করেন, সরকারি গাছ কেটে বিক্রির মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
গাছের ডাল বিদ্যুতের তারের ওপর থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন যুবক ইয়ারুল সরদার। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একই চক্র এলাকায় দখল, বালু উত্তোলন ও গাছ কাটার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে এবং প্রতিবাদ করলে হামলা, মারধর ও পুলিশি হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহিনুর রহমান স্বপন বলেন, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের টিনের চালা বৃষ্টি ও বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের প্রয়োজনে গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং কাটা গাছের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা সবাই মিলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটা বা বিক্রি করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গাছগুলোর মালিক সমিতি ও সরকার এবং সেগুলো বিক্রি নয়, শুধু মেরামতের কাজে ব্যবহারের জন্য করাতকলে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. ফসিউর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয় মেরামতের অজুহাতে অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটা আইনত অপরাধ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেননি, চুরি করেই গাছ কেটেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইব জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ইউনিয়ন পরিষদ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
ইউ

এস এম রাজা, ঈশ্বরদী, পাবনা
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








