দেশের বাজারে প্রচলিত ভোজ্যতেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিইউপি’র পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ: ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক পরীক্ষাগারে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
গড়ের পরিমাণ: প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
ব্র্যান্ড বনাম নন-ব্র্যান্ড:
ব্র্যান্ডেড তেল: প্রতি লিটারে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি কণা।
নন-ব্র্যান্ডেড (খোলা) তেল: প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা।
পার্থক্য: ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ১১ হাজার ৭১১টি বা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দূষণ পাওয়া গেছে তেজগাঁও এলাকার খোলা তেলের নমুনায়।
দূষণের সম্ভাব্য কারণ ও উৎস
গবেষকদের মতে, তেল উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানোর বিভিন্ন ধাপে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে যেতে পারে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শিল্প এলাকার পরিবেশ ও খোলা অবস্থায় তেল বিক্রি।
পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ করা।
অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং মোড়কজাতকরণ ও পরিবহনের বিভিন্ন ধাপ।
উল্লেখ্য, শুধু খোলা তেল নয়, বোতলজাত ব্র্যান্ডের তেলেও বিপুল পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ায় পুরো উৎপাদন ও পরিশোধন প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
করণীয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
গবেষণায় সবকটি নমুনার ভেতরেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এটি সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। মানবদেহে এই কণাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।
ভোজ্যতেলের বিশুদ্ধতা রক্ষায় উৎপাদন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
জেএস