ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে/হলান্ডের ‘ঘরোয়া’ লড়াইয়ে সেমিফাইনালের হাতছানি

ছবি: সংগৃহীত
আজকের রাত ৩টায় ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। এই ম্যাচে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম তারকা আর্লিং হলান্ডের জন্য থাকছে বিশেষ আবেগ। যে ইংল্যান্ডে তার জন্ম, যে দেশে তিনি বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ মাতাচ্ছেন, সেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েই সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
হলান্ডের জন্য ‘বিশেষ’ ম্যাচ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের দলের অবস্থানকে এক প্রকার ‘বিস্ময়কর’ হিসেবেই দেখছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। ইংলিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম ইংল্যান্ডে, আমি সেখানে খেলি। আমার সতীর্থ ও পরিচিত খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বিশেষ কিছু। তবে আমি একে চাপ হিসেবে না নিয়ে মজার একটি উপলক্ষ হিসেবে দেখছি।’ ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করার পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা নরওয়ে এখন নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।
নরওয়ের কৌশল ও ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ
টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ের শক্তিমত্তার মূলে রয়েছে তাদের বৈচিত্র্যময় আক্রমণভাগ। গোলরক্ষক অরয়্যান নাইল্যান্ডের নিখুঁত ডিস্ট্রিবিউশন এবং ডান উইংয়ে আলেকজান্ডার সোরলোথের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে লম্বা পাসের কৌশল ইংল্যান্ডের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে, নরওয়ের এই বিল্ড-আপ ভাঙতে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং বা রক্ষণভাগে অতিরিক্ত খেলোয়াড় (স্পেয়ার ম্যান) রাখার পরিকল্পনা করতে পারেন।
সম্ভাব্য লড়াইয়ের কিছু মূল দিক-
আক্রমণ বনাম প্রতিরক্ষা: হলান্ডকে রুখতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর বাড়তি নজর থাকবে। তাকে ঘিরে অন্তত দুজন ডিফেন্ডার রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডান প্রান্তের সতর্কতা: নরওয়ের কৌশলী উইঙ্গার সোরলোথের উচ্চতা ও শারীরিক শক্তির বিপক্ষে লড়াই করতে ইংল্যান্ডের বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকো ও’রাইলিকে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
নরওয়ের প্রস্তুতি: শুরুতে নরওয়ে শিবিরে কিছুটা অসুস্থতার খবর পাওয়া গেলেও, সর্বশেষ তথ্যমতে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে তারা।
পরিসংখ্যান ও প্রত্যাশা
চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ১২টি গোল করেছে, যার মধ্যে হলান্ডের অবদানই ৭টি। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড তাদের শক্তি ও ট্যাকটিক্যাল বিচক্ষণতা দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে মরিয়া।
অধিনায়ক স্টালে সোলবাক্কেনের দল এখন জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে চায়, আর সেই আনন্দ কেবল ইংল্যান্ডকে হারানোর মাধ্যমেই পূর্ণতা পাবে বলে মনে করছেন নরওয়েজিয়ান সমর্থকরা। আজ রাতের এই লড়াইটি শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকে থাকে, তা দেখার অপেক্ষায় সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা।
জেএস

Sports Desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








