পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনায় যারা

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রে নতুন নেতৃত্বের পালাবদলের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।
স্পিকারের দেশে প্রত্যাবর্তন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
সফর সংক্ষিপ্তকরণ: পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) স্পিকারের দেশে ফেরার কথা থাকলেও, তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্র ও দায়িত্বভার: সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে।
ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব: সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চার প্রবীণ ও শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ইমেজ, আপসহীন নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে বিএনপির মহাসচিব ও প্রবীণ এই নেতার নাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে ‘গার্ডিয়ান ফিগার’ বা অভিভাবক হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য দলের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন ব্যক্তিত্ব।
ড. আব্দুল মঈন খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক। তার রয়েছে সমৃদ্ধ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা।
নজরুল ইসলাম খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অভিজ্ঞ শ্রমিক নেতা। বিগত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
এছাড়াও, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সরকারের শীর্ষ মহলের আস্থার কথা বিবেচনা করে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগের আলোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পিকারের দেশে ফেরার পর বঙ্গভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই সবার নজর।
জেএস

Destiny Reporter
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











