টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী-

সুরমা নদী (সুনামগঞ্জ পয়েন্ট): পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ৩০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ছাতক পয়েন্ট: নদীর পানি ৮ দশমিক ৩৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ২১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

শক্তিয়ারখলা পয়েন্ট: এখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, জাদুকাটা, রক্তি ও বৌলাই নদীর পানি দ্রুত বেড়েছিল। এতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে জেলার ১১টি উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, নৌযান ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পাহাড়ি ঢলের ওপর নদীর পানির এই ঊর্ধ্বগতি নির্ভর করছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেএস