বাগেরহাটের ছেলে ইকরামুল এখন মহাবিশ্বের রহস্য সন্ধানে

ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোল্লাহাটের এক প্রত্যন্ত মফস্বল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা অঙ্গন—এ যেন এক অদম্য স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। মহাবিশ্বের অন্যতম গভীর রহস্য ‘ডার্ক এনার্জি’ (Dark Energy) ও মহাজাগতিক বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য চীনের বিশ্বখ্যাত ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ ইকরামুল কবির। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
১৯৯৪ সালে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জন্মগ্রহণ করেন ইকরামুল কবির। সরকারি ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও খুলনার শতদল মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে পদার্থবিদ্যার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের স্বাক্ষর রাখেন। ছোটবেলা থেকেই নক্ষত্র ও ছায়াপথের রহস্য উন্মোচনের স্বপ্ন দেখা এই তরুণের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূলতা আর সীমিত সুযোগকে জয় করে তিনি স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন অকুতোভয়ে।
২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইতালি পাড়ি জমান ইকরামুল। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ ছেড়ে পদার্থবিদ্যার প্রতি নিজের ভালোলাগে মনোযোগ দেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ফরাসি ভাষা শিখে ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব লিল থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড কসমোলজি নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন, যেখানে তিনি ১১০-এর মধ্যে ১০৩ নম্বর অর্জন করেন।
তার মেধার স্বাক্ষর মেলে প্যারিস অবজারভেটরির ‘লুথ’ (LUTh) গবেষণাগারে। সেখানে অধ্যাপক পিয়ের-স্তেফানো কোরাসানিতির তত্ত্বাবধানে ‘নন-ডাইনামিক্যাল ডার্ক এনার্জি’ বিষয়ে ছয় মাস গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় তিনি ইতালীয় কসমোলজিস্ট অধ্যাপক আন্তোনিনো মারচিয়ানোর তত্ত্বাবধানে ‘কোয়ান্টাম মডেল অব ডার্ক এনার্জি’ নিয়ে কাজ করবেন। মহাবিশ্বের উৎপত্তি, ইনফ্লেশন এবং মহাজাগতিক পরিণতির রহস্য উন্মোচনই তার গবেষণার মূল লক্ষ্য।
তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গবেষণার পাশাপাশি ইকরামুল একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম এবং পরিবেশ সচেতন কর্মী। তিনি বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান ও ধর্ম একে অপরের পরিপূরক। পাশাপাশি ফ্রান্সের গ্রিনপিসের হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও তিনি সরব ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কসমোলজি বিষয়ে বক্তৃতা দিয়ে নতুনদের পথ দেখাচ্ছেন তিনি।
ইকরামুল কবিরের এই যাত্রা প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সীমাবদ্ধতা কখনোই বড় বাধা হতে পারে না। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে তার এই যাত্রা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নামকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা করছেন শিক্ষা ও বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা।
জেএস

Destiny Desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.







