চিকিৎসকরা সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন কারণ এটি পৃথিবীর অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে নিরাপদ শরীরচর্চা হিসেবে বিবেচিত। সাঁতারকে 'ফুল বডি ওয়ার্কআউট' বা পুরো শরীরের ব্যায়াম বলা হয়, কারণ এটি একই সাথে শরীরের মাংসপেশি, হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

নিচে সাঁতার কাটার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো:

জয়েন্ট বা হাড়ের ওপর চাপ কমায়

অনেক ব্যায়াম (যেমন দৌড়ানো বা জিম করা) হাড়ের সন্ধিস্থল বা জয়েন্টে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু পানিতে শরীরের ওজন প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। ফলে আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টে ব্যথা বা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সাঁতার সবচেয়ে নিরাপদ ব্যায়াম। এটি শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি

সাঁতার একটি চমৎকার কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। এটি হৃদস্পন্দন বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া সাঁতার কাটার সময় নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বলে এটি ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

পেশি গঠন ও শরীরের শক্তি বৃদ্ধি

পানিতে বাতাসের চেয়ে অনেক বেশি ঘনত্ব থাকে। তাই পানিতে নড়াচড়া করতে শরীরের প্রতিটি পেশিকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। এটি শরীরের পেশিকে মজবুত করে এবং পেশির গঠন সুন্দর করে। যারা শরীরের মেদ কমিয়ে পেশি সুগঠিত করতে চান, তাদের জন্য সাঁতার সেরা উপায়।

মানসিক প্রশান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস

গবেষণায় দেখা গেছে, পানিতে সময় কাটালে শরীরের এন্ডোরফিন (Endorphins) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখে। দীর্ঘদিনের বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত সাঁতার কাটার কোনো বিকল্প নেই। পানির শব্দ ও শীতল স্পর্শ স্নায়ুকে শিথিল করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর

সাঁতার কাটলে শরীরের অনেক ক্যালরি পোড়ানো যায়। মাত্র আধা ঘণ্টার সাঁতারে যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয়, তা একই সময়ের হাঁটা বা দৌড়ানোর চেয়েও বেশি হতে পারে। ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি আনন্দদায়ক ব্যায়াম।

ইনজুরির ঝুঁকি কম

অন্যান্য খেলাধুলা বা ব্যায়ামের তুলনায় সাঁতারে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। যেহেতু শরীর পানির ওপর ভেসে থাকে, তাই পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার বা লিগামেন্টে চোট পাওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

কাদের জন্য সাঁতার বিশেষভাবে উপকারী?

আর্থ্রাইটিসের রোগী: জয়েন্টের ব্যথা থেকে আরাম পেতে।

অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগী: ফুসফুসের ব্যায়াম হিসেবে।

অতিরিক্ত ওজনধারী: হাঁটুতে ব্যথা ছাড়াই ক্যালরি পোড়াতে।

পিঠ বা কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তি: পানির বায়োেন্সি বা প্লবতার কারণে মেরুদণ্ড ও পিঠের ওপর চাপ কম পড়ে, ফলে ব্যথা কমে।

যাদের হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তারা সাঁতার শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেবেন। এছাড়া, সাঁতার কাটার সময় সর্বদা নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।

জেএস