পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবদুটি মসজিদ ও কৃষিজমিতে আগুন, বহু বাড়ি পুড়িয়ে ছাই

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে নতুন করে চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের আঁধারে একের পর এক নৃশংস হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি মসজিদ ও অসংখ্য কৃষিজমি। এছাড়া সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মসজিদ ও বসতিতে আগুন, দেয়ালে অবমাননাকর স্লোগান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন কুসরা গ্রামের একটি নির্মাণাধীন মসজিদে আগুন দেয় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। মসজিদের দেওয়ালে স্প্রে করে লেখা হয় প্রতিশোধমূলক বার্তা। একই কায়দায় কুর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানেও পবিত্র দেওয়ালে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক স্লোগান লিখে দেয় হামলাকারীরা।
এর আগে তাল গ্রামের কাছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও তাণ্ডবের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
প্রাণ বাঁচাতে চার সন্তান নিয়ে পালিয়ে গেছেন হানান তুরাবি
সাররা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নৃশংসতার নির্মম শিকার হয়েছেন হানান তুরাবি নামের এক ফিলিস্তিনি নারী। হামলাকারীরা তার বাড়িসহ মোট ছয়টি আবাসিক ভবন আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে চার সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে পালিয়ে বেঁচেছেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি আহত হন।
গণগ্রেপ্তার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে দমনপীড়নের অংশ হিসেবে সপ্তাহান্তে অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্য থেকে অন্তত ১৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের এই বেপরোয়া ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পশ্চিম তীরের সংকটকে আরও গভীর ও বিপজ্জনক করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলে এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও থামছে না রক্তপাত ও সংঘাতের এই বীভৎসতা।
সূত্র: বিবিসি
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.









