সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চলমান সামরিক তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে ১৯৭৪ সালের সৈন্য বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দামেস্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রধান এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর—অর্থাৎ ২০০৯ সালে তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুনের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া সফর করলেন। গত ২৫ জুলাই তিনি দামেস্কে পৌঁছান।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্তোনিও গুতেরেস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অধিকৃত গোলান মালভূমি সিরিয়ারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ইসরায়েলকে অবিলম্বে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

গুতেরেস জানান, সিরিয়ায় ইসরায়েলের বেআইনি ও আগ্রাসী পদক্ষেপগুলো নিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই আহ্বানের মধ্যেই সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার অধিকৃত গোলান মালভূমির সংলগ্ন দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গ্রামে ইসরায়েলি সেনারা আকস্মিক প্রবেশ করে। এরপর কুনেইত্রা অঞ্চলের কৃষিজমিতে নগ্ন গোলাবর্ষণ চালানো হয়। এমনকি আল-আরিদাহ গ্রামে উসকানিমূলক লিফলেট ফেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তা অবরোধ কিংবা ইসরায়েলি সেনা চলাচলে বাধা না দেওয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সিরিয়ার মানবিক সংকট ও সহায়তা ঘাটতি

সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির চিত্রও তুলে ধরেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা দেশটির মোট প্রয়োজনের মাত্র ২০ শতাংশ পূরণ করতে পারছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে আরও জোরালো পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে গুতেরেস বলেন, সিরিয়ায় জরুরি সেবা ও অবকাঠামো পুনর্গঠন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে এখন ব্যাপক আকারে সহায়তা প্রয়োজন।

জেএস