'আমরা ইরানকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি'

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাউন্ট রাশমোরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের চলমান সংকট নিরসনে আলোচনা স্থগিত রেখে তারা তেহরানকে 'এক সপ্তাহের ছুটি' দিয়েছেন।
নিজের ভাষণে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা ইরানকে ভালোভাবেই চাপে রেখেছি। তারা এখন যেকোনো মূল্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে মরিয়া। আমরা তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি, কারণ আমরা দয়ালু।"
এর আগে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন কিছু নয়। তবে আলোচনার সুযোগ রাখতে এবং কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে তারা সামরিক কঠোরতা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোক শোভাযাত্রায় জনতার ঢল এবং মানুষের আহাজারি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "সেখানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও শোক দেখে আমি বিস্মিত। কে জানে, ওগুলো হয়তো লোকদেখানো কান্না!"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার চার মাস পর এখন তাঁর দাফন ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। একদিকে এই শোকের আবহে যখন ইরান ও তার মিত্র দেশগুলো শোক পালন করছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার স্বার্থেই তারা বর্তমানে সামরিক অভিযান থেকে বিরত আছেন।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের 'কঠোর' বাগাড়ম্বর চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.






