সৌরঝড়ের কবলে নাসার টেলিস্কোপ, রক্ষায় ৩ কোটি ডলারের রোবট মিশন

ছবি: সংগৃহীত
সৌরঝড়ের তীব্র প্রভাবে কক্ষপথ হারিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ধেয়ে আসছে নাসার ২৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘সুইফট’। টেলিস্কোপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি
২০০৪ সালে মহাবিশ্বের শক্তিশালী বিস্ফোরণ বা ‘গামা-রে বার্স্ট’ নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে সুইফট টেলিস্কোপটি মহাকাশে পাঠানো হয়। তবে সাম্প্রতিক সৌরঝড়ের কারণে এর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। টেলিস্কোপটি বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে নিচে নেমে আসছে, যার ফলে এটি পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের রূপরেখা
এই বিপর্যয় এড়াতে শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ‘লিংক’ নামের একটি বিশেষ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস’ নামক প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই রোবটিক যানটিতে তিনটি যান্ত্রিক হাত রয়েছে।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে ‘লিংক’ রোবটটি সুইফট টেলিস্কোপের কক্ষপথের কাছাকাছি পৌঁছাবে।
শনাক্তকরণ: পৌঁছানোর পর সৌর প্যানেল সক্রিয় করে কয়েক সপ্তাহ ধরে টেলিস্কোপটির নিখুঁত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে।
আঁকড়ে ধরা: অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রোবটটির তিনটি যান্ত্রিক হাত দিয়ে সুইফটকে শক্তভাবে ধরা হবে।
পুনঃস্থাপন: সবশেষে রোবটটি নিজের ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে টেলিস্কোপটিকে বর্তমান অবস্থান থেকে ৩০০ কিলোমিটার উঁচুতে, অর্থাৎ তার আগের নিরাপদ কক্ষপথে স্থাপন করবে।
এই জটিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক শন ডোমাগাল-গোল্ডম্যান এই অভিযানকে ‘অত্যন্ত জটিল এবং নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই মিশন সফল হলে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কক্ষপথে থাকা অন্যান্য অকেজো স্যাটেলাইট বা টেলিস্কোপকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব হবে।
জেএস

Destiny Desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.






