খাল খননের বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

ইউএনও মো. শাহিদুল ইসলাম। ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বেঁচে যাওয়া ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিদুল ইসলাম। সরকারি অর্থের এমন সৎ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ইউএনও। সভায় উপস্থিত সকল সদস্য তার এই সততা ও দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার রাজাপুর-বিরলী খাল ও সিলোনীয়া খাল পুনঃখননের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৯০ টাকা। গত ১৭ মে একযোগে উভয় খালের খননকাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৩০ জুনের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা। ফলে কাজ শেষে অতিরিক্ত ৬১ লাখ ২০ হাজার ৬৪৭ টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিবরণ:
রাজাপুর-বিরলী খাল: ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। খননে প্রকৃত খরচ হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং ফেরত দেওয়া হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা। এছাড়া খালের দুই পাড়ে ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
সিলোনীয়া খাল: ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিল ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত খরচ হয়েছে ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৯ টাকা এবং ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা। পাড় বাঁধাই ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে সেখানে আরও ২০৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।
দুই খাল মিলিয়ে সর্বমোট ৬০৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়দের মতে, খাল দুটি সংস্কারের ফলে নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বর্ষাকালে এলাকার কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, “খাল দুটি খননের ফলে কৃষকরা বড় আকারের সুবিধা ভোগ করবেন এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে। আমাদের ইউএনও মহোদয় অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই কাজগুলো করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া দাগনভূঞায় আরও ৩৩টি খাল খননের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”
টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের খালগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সেখানে লেবার নামিয়ে খাল কাটার সুযোগ ছিল না। আমরা শুধু কিছু কিছু জায়গায় পাড় বাঁধাইয়ের জন্য শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছি। অনেকে বিষয়টি না জেনে বিভিন্ন মন্তব্য করতে পারেন। আমরা চাইলে ভুয়া লেবার দেখিয়ে পুরো টাকা খরচ করতে পারতাম, কিন্তু আমরা সেই সুযোগ নিইনি। তাই উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
জেএস

মো. ফখরুল ইসলাম, ফেনী প্রতিনিধি
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










