স্বাবলম্বী হচ্ছে শত পরিবারলেবু চাষে ঘুরছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ধান ও পাটের চাষের পাশাপাশি বর্তমানে লেবু চাষে বিপ্লব ঘটেছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এখন লেবু চাষের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে গাজীখালী ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী উর্বর দোআঁশ-পলি মাটিতে ব্যাপকহারে লেবুর আবাদ লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলার বরাইদ, দিঘলীয়া, দরগ্রাম, তিল্লি এবং সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিঘার পর বিঘা লেবু বাগানের মনোরম দৃশ্য গ্রামীণ প্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্ষার এই সময়েও কৃষকরা বাগান পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া এবং সার ও কীটনাশক প্রয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বদলে গেছে ওয়াজেদ মিয়ার জীবন
দিঘলীয়া ইউনিয়নের চাচিতারা গ্রামের সফল লেবুচাষী ওয়াজেদ মিয়া জানান, আগে তিনি কাঁচামালের ব্যবসা করলেও প্রতিযোগিতায় লাভ কমে যাওয়ায় এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে লেবু চাষ শুরু করেন। প্রথমে ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে কিছু জমি লিজ নিয়ে লেবুর চারা লাগান। দেড় বছরের মাথায় ফলন আসা শুরু হয় এবং প্রথম বছরই ৪০ শতাংশ জমি থেকে খরচ বাদে প্রায় ৪ লাখ টাকা লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করছেন এবং সব খরচ বাদ দিয়ে তার বার্ষিক নিট মুনাফা প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তিনি বলেন, “এখন পরিবার নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো আছি।”
লেবু চাষের অভিজ্ঞতা ও জাত সম্পর্কে ওয়াজেদ মিয়া বলেন, “আমাদের দেশে বাউ লেবু-২, পাতি লেবু, চায়না লেবু, বারী-১, বারী-২, বারী-৩, কাগজি লেবু ও সিডলেস জাতের লেবু চাষ হয়। এর মধ্যে বারী ও সিডলেস জাতের চাষ অধিক লাভজনক। কারণ এগুলোর আকার বড়, সুগন্ধযুক্ত, বীজহীন ও অত্যন্ত সুস্বাদু হয়।” লেবু গাছ সুস্থ রাখতে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সেচ এবং সঠিক সময়ে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শও দেন তিনি।
কামলা থেকে স্বাবলম্বী কালাম মিয়া
লেবু চাষ করে সফলতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরাইদ ইউনিয়নের কালাম মিয়া। একসময় অন্যের বাড়িতে কৃষিশ্রমিকের কাজ করা কালাম শখের বসে উঠানে ১০টি লেবু গাছ লাগিয়েছিলেন। সেখান থেকে প্রতিদিনের বাজার খরচ মেটার পর তিনি অন্যের কাছ থেকে সামান্য চুক্তিতে ৩০ শতাংশ জমি ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে লেবু চাষ শুরু করেন।
দুই বছরের মধ্যে ওই জমি থেকেই ৭ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ৩ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করছেন। কালাম মিয়া আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এখন আমাকে আর মানুষের বাড়ি কামলা খাটতে হয় না। লেবু ক্ষেতের আয় দিয়েই আমার সংসারের যাবতীয় খরচ দিব্যি চলে যাচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া পেলে সাটুরিয়ার এই লেবু চাষ আরও প্রসার লাভ করবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জেএস

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.







