জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর পানির ট্যাংকে বিষ প্রয়োগ, ৩ পুলিশ সদস্য অসুস্থ

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম ও আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের পানির ট্যাংকে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই পানি পান করে তিন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এটিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঠান্ডা মাথায় একটি "হত্যাচেষ্টা" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
রোববার (২৫ জুলাই) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৭টার দিকে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা পানের জন্য গ্লাসে পানি নেওয়ার সময় তাতে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পানি পানের পর তারা তীব্র গন্ধ ও অস্বস্তি অনুভব করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পেটের পীড়াসহ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।
তৎক্ষণাত তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই তিন পুলিশ সদস্য আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাতে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, "সন্ত্রাসীরা মধ্যরাতে এই জঘন্য কাজ করেছে। তারা জানত ভোরে ঘুম থেকে উঠে অনেকে এই পানি ব্যবহার করবে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক জাতীয় ওষুধ পানিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্টতই একটি হত্যাচেষ্টা।"
তিনি আরও বলেন, "জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানের পর থেকে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অস্ত্র দিয়ে আমাদের ঠেকানোর ক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন গুপ্তভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এর আগে তারা আমাদের বিদ্যুৎ লাইন, পানির লাইন ও রাস্তা কেটে দিয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা ও মব সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।"
আলীনগর এলাকার এই অস্থায়ী ক্যাম্পে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির প্রায় দুই শতাধিক সদস্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত আছেন। ক্যাম্পের পাশাপাশি স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই ট্যাংকের পানি ব্যবহার করত।
ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে— ক্যাম্পের সব সদস্য ও স্থানীয়দের পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। স্কুলের সব বাথরুম ও পানির সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্যাংকের অবশিষ্ট পানি ফেলে দিয়ে দ্রুত সম্পূর্ণ ট্যাংকটি পরিষ্কার করা হয়। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।
ডিআইজি নাজিমুল হক আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভীত বা চিন্তিত নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য স্কুলের ভেতরে স্থায়ী পাম্প বসাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের একটি বিশাল যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুর থেকে সন্ত্রাসীদের হটিয়ে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্ন অভিযান চালানো হলেও দুর্গম ও অপরাধের অভয়ারণ্য এই এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি এর আগে অভিযানে গিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছিলেন।
জেএস

চট্টগ্রাম ব্যুরো
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











