চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সবচেয়ে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়।
সাতকানিয়া উপজেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানাতেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডলু নদীর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে অন্তত পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। বুধবার রাত থেকে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, প্রতিটি এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, চন্দনাইশের দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া লোহাগাড়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে আছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণের সুবিধার্থে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের স্বার্থে জেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রান্নার সুযোগ না থাকায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তারা খাদ্য সংকটে ভুগছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেএস

চট্টগ্রাম ব্যুরো
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










