রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানায় কমেছে উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে গ্যাস সংকটের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে অনেক বাসায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে বাড়ছে বাড়তি খরচ।
ভুক্তভোগীরা জানান, আগে যেখানে অল্প সময়ের মধ্যেই রান্নার কাজ শেষ করা যেত, এখন একই কাজে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে সকালে স্কুলগামী সন্তান ও কর্মজীবী পরিবারের সদস্যদের জন্য সময়মতো খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন কারখানায় প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে, আবার কোথাও কোথাও উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শিল্প মালিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে সংকট। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না। ফলে স্টেশনগুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষার সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের আয় কমে যাচ্ছে।
এদিকে, সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকের কাছে গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, দেশের চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না। এর প্রভাব পড়ছে রান্নার গ্যাস সরবরাহে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও দেখা দিয়েছে সমস্যা।