নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুদ বেলিংহ্যাম। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে আরলিং হালান্ডদের বিদায় করে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ এখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তবে মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের চেয়েও বেলিংহ্যামের কাছে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটি হলুদ কার্ডের ঝুঁকি ছিল তার ওপর। আরেকবার কার্ড দেখলেই সেমিফাইনাল থেকে নিষিদ্ধ হতেন তিনি। কিন্তু মায়ের সঠিক পরামর্শে সেই ঝুঁকি কাটিয়ে মাঠ মাতিয়েছেন এই তারকা।
ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যাম জানান, তার শৃঙ্খলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মা ডেনিস বেলিংহ্যামের। তিনি বলেন, “সারা সপ্তাহ মা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের আবেগ, মুখের অভিব্যক্তি এবং ট্যাকল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। হলুদ কার্ডের ভয় নিয়ে তিনি সারাক্ষণ আমাকে সতর্ক করেছেন। তার পরামর্শ মেনেই আমি মাঠে ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন খেলোয়াড় হিসেবে সঠিক মানসিকতা বজায় রাখলে খেলা অনেক সহজ হয়ে যায়। রেফারির সাথেও সম্মান বজায় রেখে কথা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভাগ্য ভালো যে কোনো কার্ড ছাড়াই ম্যাচটি শেষ করতে পেরেছি।”
চলতি বিশ্বকাপে বেলিংহ্যামের গোল সংখ্যা এখন ছয়টি, যা ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সমান। গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে তিনি এখন অন্যতম দাবিদার। বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত বেলিংহ্যাম বলেন, “এটি আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি গর্বিত, তবে দলের প্রতিটি সদস্যের লড়াই ছিল অসাধারণ।”
নরওয়ের বাধা পেরিয়ে এবার ইংলিশদের সামনে আর্জেন্টিনা। কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে থাকা বেলিংহ্যাম এখন লিওনেল মেসি বাহিনীর বিপক্ষে নামার অপেক্ষায়। দলের মানসিক দৃঢ়তাকে পুঁজি করেই তারা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে।
নরওয়ের বিপক্ষে জয়টি ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ সেমিফাইনালে বেলিংহ্যাম বনাম মেসি দ্বৈরথের দিকে।
জেএস