হরমুজ প্রণালি ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। এবারের অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে শনিবারের হামলায় প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার কথা জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই আইআরজিসি তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কুয়েতের আলি আল সালেম মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আহমাদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতে রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
অন্যদিকে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন কমান্ড কেন্দ্র ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কুয়েত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি পানির স্টেশনে মার্কিন হামলায় একজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া খোররামশাহর, হোভেইজেহ এবং আন্দিমেশক এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। প্রাদেশিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধ ও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইআরজিসি তাদের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই পক্ষের এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের চক্র পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জেএস