পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি: ঠাঁই পাচ্ছেন আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের নকশায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের গল্প এবার স্থায়ী রূপ পাচ্ছে দেশের ভ্রমণ নথিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই নকশা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের ছবি। দেশের ইতিহাসে তরুণ প্রজন্মের এই ঐতিহাসিক অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নতুন নকশা কেবল গণ-অভ্যুত্থানই নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক নান্দনিক উপস্থাপন হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় স্থান পেতে যাওয়া অনুষঙ্গগুলো হলো:
ঐতিহাসিক স্থাপনা: জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত (ঝাউবনসহ), সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরি।
জাতীয় প্রতীক ও শিল্পকলা: জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠাল। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে পাসপোর্টের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সিদ্ধান্তটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের মতোই 'ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ'—এই শর্তটি অপরিবর্তিত থাকছে। নতুন এই ই-পাসপোর্ট নাগরিকদের জন্য আরও অর্থবহ এবং বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য দলিল হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেএস

ডেসটিনি ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










