জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও বিভ্রান্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সব সংকটের সমাধান সম্ভব।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-আন্দোলন দেশের সামনে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে এবং এসব সংস্কার কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য।

রাষ্ট্র সংস্কারের পথ সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা নানা সমস্যার সমাধান করে একটি কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই গুজব, উসকানি ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আন্দোলনের সময় অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন, যা দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউ