১৫০ দিনের শাসন: ৫টি প্রধান সাফল্য তুলে ধরল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৫০ দিন বা পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ প্রধান ৫টি অর্জনের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারের অর্জন ও পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
মূল ৫টি অর্জন
মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, গত পাঁচ মাসের সাফল্যকে মূলত পাঁচটি বৃহৎ পরিসরে ভাগ করা হয়েছে। জনগণের আস্থা ও সমর্থন: জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে স্বল্প সময়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা। সার্বভৌমত্ব রক্ষা: জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তারেক রহমানের নেতৃত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়, ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ। পরিবেশ ও যোগাযোগ: পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। সুশাসন ও অপচয় রোধ: বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং সরকারি অপচয় কমাতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পরিহারের সিদ্ধান্ত।
সরকার সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে জানানো হয়—কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, ক্রীড়াবিদ ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক সুবিধা চালু করা হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে সবার জন্য একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরি, নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, "মাত্র ১৫০ দিনে সরকার শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানই করেনি, বরং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে।" ভবিষ্যতেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার একই রকম উদ্যম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডিপিএস-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
ইউ

ডেসটিনি প্রতিবেদক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










