বান্দরবানে পানিবন্দি হাজারো পরিবার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবি: সংগৃহীত
টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও কিছু নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, কিন্তু জেলা শহর ও লামার বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় রোগী ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা অতি বর্ষণে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো জেলা শহরের আর্মিপাড়া, হাফেজঘোনা, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর ও ক্যাচিংঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪-৫ ফুট পানি রয়েছে। একইভাবে লামা পৌরসভার প্রধান বাজার ও চেয়ারম্যান পাড়ায় এখনো পানি জমে আছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও গাছ ভেঙে পড়ায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ রিঙ্কু দে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টায় মোট ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানিয়েছেন, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ১ থেকে ১.৫ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার কারণে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের বাজালিয়া পয়েন্টে রাস্তা ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ছিল। এছাড়া রুমা উপজেলায় বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রাবাসে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।
লামা বাজারে আকস্মিক পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি, এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় বন বিভাগ তাদের ৯ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা স্থগিত করেছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেএস











