গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস বা সকালের অসুস্থতা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। অনেক গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে (প্রথম ট্রাইমেস্টারে) এই সমস্যা দেখা দেয়। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

মর্নিং সিকনেস কী?

গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়াকে 'মর্নিং সিকনেস' বলা হয়। যদিও এর নাম 'মর্নিং' সিকনেস, কিন্তু এই অস্বস্তি দিনের যেকোনো সময় বা এমনকি পুরো দিনজুড়েও থাকতে পারে। এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার ৬ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে তীব্র হয় এবং ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।

কেন হয়?

এর সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও কিছু বিষয়কে দায়ী করা হয়:

হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় শরীরে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (hCG) হরমোনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ঘ্রাণশক্তি বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় অনেক মায়ের তীব্র ঘ্রাণশক্তি তৈরি হয়, যা থেকে বমি ভাব শুরু হতে পারে।

পাচনতন্ত্রের সংবেদনশীলতা: গর্ভাবস্থায় হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা বমি ভাবের সৃষ্টি করতে পারে।

উপশমের উপায়সমূহ

মর্নিং সিকনেস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এর তীব্রতা কমানো সম্ভব:

অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া: একবারে বেশি না খেয়ে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে বারবার খান। এতে পাকস্থলী খালি থাকবে না এবং বমি ভাব কম হবে।

শুকনো খাবার: সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগে বিছানায় শুয়েই সামান্য বিস্কুট, টোস্ট বা শুকনো মুড়ি খেতে পারেন।

তরল খাবার: খাবারের সাথে বেশি পানি না খেয়ে খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে পানি বা তরল পান করুন।

ঘ্রাণ এড়িয়ে চলা: যে ধরনের খাবার বা গন্ধ থেকে বমি ভাব বাড়ছে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। ঘরবাড়ি ও রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করুন।

আদা: আদা চা বা আদা কুচি চিবানো বমি ভাব কমাতে দারুণ কার্যকর।

বিশ্রাম: ক্লান্তি মর্নিং সিকনেস বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

সাধারণ বমি ভাব গর্ভাবস্থার অংশ হলেও কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:

১. যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খাবার বা পানি একদমই হজম না হয়।

২. ওজন দ্রুত কমতে শুরু করলে।

৩. প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে (যা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ)।

৪. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরানো।

৫. বমির সাথে রক্ত দেখা দিলে।

গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন। নিজের ইচ্ছায় কোনো বমির ওষুধ সেবন করবেন না।

মর্নিং সিকনেস একটি সাময়িক অবস্থা, যা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ পরেই ভালো হয়ে যায়। তবে আপনি কি এই বিষয়ে বর্তমানে কোনো বিশেষ সমস্যায় ভুগছেন বা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাচ্ছেন

জেএস