ভারতের টিভি মিডিয়া ও সংবাদপত্রের কভারেজলাইভ সম্প্রচার আর প্রাইম টাইমের দ্বিচারিতা নিয়ে শৈলজা বাজপেয়ীর বিশ্লেষণ

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের গণমাধ্যমে ছাত্রবিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন কভার করার ক্ষেত্রে লাইভ সম্প্রচার ও প্রাইম টাইমের খবরের মধ্যে এক অদ্ভুত ফারাক ও দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি 'দ্য প্রিন্ট'-এর রিডার্স এডিটর ও প্রখ্যাত সাংবাদিক শৈলজা বাজপেয়ী তার এক কলামে ভারতীয় টিভি নিউজ চ্যানেল এবং প্রধান প্রিন্ট মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে এই কঠোর সমালোচনা করেছেন।
টিভি মিডিয়ার ভেলকি: লাইভে এক, প্রাইম টাইমে আরেক
সরাসরি সম্প্রচারে সত্য প্রকাশ: গত ২০ জুন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিবাদ মিছিল এবং ২১ জুলাই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধরনা কর্মসূচির সময় টিভি চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচারে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং বিক্ষোভের বিশালতা নির্ভয়ে তুলে ধরেছিল। মাঠে থাকা সাংবাদিকরাও এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ বা অর্গানিক বলে উল্লেখ করেছিলেন।
প্রাইম টাইমে সুর বদল: কিন্তু বিকেলের দিকে বিক্ষোভ স্তিমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিভি নিউজ চ্যানেলগুলোর ট্র্যাকিং ও শিরোনাম বদলে যায়। ‘আজ তক’, ‘ইন্ডিয়া টিভি’-সহ বিভিন্ন চ্যানেলে ছাত্রদের ওপর সহিংসতার দায় চাপিয়ে ‘পুলিশের ওপর হামলা’ বা মৃদু বলপ্রয়োগের গল্প প্রচার করা শুরু হয়।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা: সিএনএন নিউজ ১৮ এবং রিপাবলিক ভারতের মতো কিছু চ্যানেল এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে লুকানো ‘টুলকিট’ এবং আন্তর্জাতিক বা পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতে শুরু করে, যা মাঠে থাকা তাদের নিজেদের সাংবাদিকদের রিপোর্টের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
সংবাদপত্রের কভারেজ ও অদ্ভুত কুণ্ঠা
প্রধান ইংরেজি ও হিন্দি সংবাদপত্রগুলো বিক্ষোভের খবর প্রকাশ করলেও কিছু ক্ষেত্রে নামের ক্ষেত্রে একধরণের দ্বিধা বা কুণ্ঠা দেখা গেছে:
ইংরেজি দৈনিকের অবস্থান: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য ট্রিবিউন বিক্ষোভের ব্যাপক কভারেজ দিলেও শিরোনামে ‘সিজেপি’ বা সুনির্দিষ্টভাবে ছাত্রসংগঠনের নাম এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি কঠোর সম্পাদকীয় প্রকাশ করে লিখেছে যে, “কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠি দিয়ে ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করা যায় না।”
হিন্দি সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা: দৈনিক ভাস্কর, দৈনিক জাগরণ ও রাজস্থান পত্রিকার মতো হিন্দি দৈনিকগুলো কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি ‘ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ মার্চ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে’ কিংবা ‘রাহুল গান্ধীর ধরনার পর সরকার পেপার-ফাঁস ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত’—এমন স্পষ্ট শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের চাপ বা স্ব-সেন্সরশিপের (সেলফ সেন্সরশিপ) কারণে মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশ বাস্তব ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেও বিদেশি গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা এই দ্বিমুখী নীতির পর্দাফাঁস করেছে।
জেএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











