বর্ষায় শিশুদের সুস্থ রাখতে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

ছবি: সংগৃহীত
বর্ষাকাল মানেই চারদিকে স্বস্তির হাওয়া। তবে এই মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। যার ফলে শিশুরা ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, আমাশয় ও বদহজমের মতো পেটের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষায় শিশুদের সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
বর্ষাকালে শিশুদের যেসব খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
রাস্তার খোলা খাবার: ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি বা খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া খাবার শিশুদের দেওয়া একদমই অনুচিত। এসব খাবারে মাছি, ধুলোবালি ও বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে খুব দ্রুত জীবাণু ছড়ায়।
বাসি খাবার: রান্না করা খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখা যাবে না। বর্ষায় বাসি খাবারে ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুদের সবসময় টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়ানো উচিত।
আগে থেকে কেটে রাখা ফল: বাজারে অনেক সময় কেটে রাখা ফল বিক্রি হয়, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফল কিনে বাসায় ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কেটে দেওয়া নিরাপদ।
তেল-মসলাযুক্ত খাবার: চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজা খাবার শিশুদের হজমে জটিলতা ও পেটব্যথার কারণ হতে পারে।
কোমল পানীয় ও মিষ্টি: প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
কাঁচা বা আধাসেদ্ধ খাবার: আধাসেদ্ধ ডিম, মাছ বা মাংস এবং ঠিকমতো ধোয়া হয়নি এমন কাঁচা সালাদ শিশুদের দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বর্ষাকালে শিশুদের জন্য নিরাপদ হলো গরম ও টাটকা রান্না করা খাবার। খাদ্যতালিকায় ভাত, ডাল, খিচুড়ি ও মৌসুমী সবজি রাখুন। এছাড়া ফল ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ান এবং শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার খাওয়ার পর শিশুর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। যেমন—
১. বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা হওয়া।
২. মলের সঙ্গে রক্ত বা শ্লেষ্মা দেখা দেওয়া।
৩. তীব্র পেটব্যথা ও জ্বর।
৪. শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতাই শিশুদের বর্ষার মৌসুমি রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
জেএস

ডেসটিনি ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






