‘অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে’/র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ জানালেন পরীমনি

ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালের ৪ আগস্ট ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় র্যাবের সেই আলোচিত অভিযান এবং পরবর্তীতে তার কারাবাসের ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সাজানো’ বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি র্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলামের একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর, নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
‘সত্য স্বীকার করায় ধন্যবাদ’
একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান খাইরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, পরীমনিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশটি এসেছিল তৎকালীন র্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে। এই সত্য প্রকাশ্যে আসায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনি লেখেন, ‘দেরিতে হলেও আপনি সত্য স্বীকার করেছেন। দেশের মানুষ এখন জানতে পেরেছে, ৪ আগস্ট আমার বাসায় নাটকীয় অভিযানের পর বেআইনিভাবে ও বিশেষ মহলের স্বার্থে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’
যা বলেছিলেন র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান
সম্প্রতি টকশোতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম জানান, তৎকালীন ডিজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে ফোন করে পরীমনিকে ধরার নির্দেশনা দেন। ডিভাইস ফরেনসিক করে কোনো প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে মাদক মামলায় চালান দেওয়া হয়। তৎকালীন ডিজির ভাষ্যমতে, পরীমনি ‘ঊর্ধ্বতন মহলের অনেককে ডিস্টার্ব ও ব্ল্যাকমেইল করছিলেন’, তাই তাকে প্রতিকার করা প্রয়োজন ছিল।
‘জীবন বিপর্যস্ত, রাষ্ট্র কি দায় নেবে?’
পোস্টে পরীমনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন নারী শিল্পীর জীবন, সম্মান ও চরিত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, ‘আমার হারানো সম্মান, মানসিক শান্তি এবং সেই দিনগুলো কি রাষ্ট্র ফিরিয়ে দিতে পারবে? যে বিভ্রান্তিকর ধারণা মানুষের মনে তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনো বিতর্কিত মানুষ হতে চাইনি। আমি সবসময় একজন শিল্পী হিসেবে বাঁচতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা আমি আজও বহন করছি।’
‘অতীতের ক্ষত পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই’
নিজেদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার দাবি করলেও, অতীতের ক্ষোভ বয়ে বেড়াতে চান না বলে জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি আর প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে। আমার পরিবার, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদের সমর্থনই আমাকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। আমি এখন আমার কাজ ও সন্তানকে নিয়ে মুক্ত আকাশে পরীর মতোই বাঁচতে চাই।’
পরীমনি তার পোস্টে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সাজানো ওই মামলা থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত খালাস পাবেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এভাবে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা করেন।
জেএস

বিনোদন ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










