উলিপুরে কাঁচামরিচের কেজি ৩শ’ টাকাসবজির বাড়তি দামে নাভিশ্বাস নিম্ন আয়ের মানুষের

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও স্থানীয় খেত নষ্ট হওয়ার অজুহাতে হু হু করে বাড়ছে সব ধরনের সবজির দাম। এর মধ্যে কাঁচামরিচের দাম ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উলিপুর পৌর সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজারে সবজির পর্যাপ্ত আমদানি না থাকায় এবং অধিকাংশ দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। দুয়েকজন ক্রেতা বাজারে এলেও আকাশছোঁয়া দাম দেখে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচামরিচ পাইকারিতে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা বর্তমানে পাইকারিতে ৩২০ টাকা এবং খুচরায় ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া করলা পাইকারিতে ৮০ টাকা ও খুচরায় ১০০ টাকা, বেগুন পাইকারিতে ৬০ টাকা ও খুচরায় ৭০ টাকা এবং পটল পাইকারিতে ৬০ টাকা ও খুচরায় ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম চড়া থাকলেও তুলনামূলকভাবে আলুর দাম কিছুটা কম রয়েছে।
হাতিয়া ইউনিয়ন থেকে বাজারে আসা সফিকুল ইসলাম জানান, কাঁচামরিচের যে আগুন দাম, তাতে এক কেজি কেনা তো দূরে থাক, বাধ্য হয়ে ৮০ টাকা দিয়ে মাত্র এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) এবং ৫০ টাকায় ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ কিনেছেন তিনি।
তবকপুর এলাকা থেকে বাজার করতে আসা এক গৃহবধূ আক্ষেপ করে বলেন, “কাঁচাবাজারে এসে দম আটকে যাওয়ার দশা হয়েছে। যে টাকা নিয়ে এসেছি, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় তরিতরকারিই কিনতে পারিনি। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।”
পৌর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মিনহাজুল ইসলাম জানান, দুই সপ্তাহ আগে যে মরিচ ৫০ টাকা কেজিতে পাইকারি কিনে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এখন সেই মরিচ ৩২০ টাকায় কিনে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারিতে বেশি দাম থাকায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতা ও বিক্রি দুটোই অনেক কমে গেছে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতি রোধে দ্রুত কার্যকর বাজার মনিটরিং চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
জেএস

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










