ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলেন, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসক বলেন, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।” তবে ভিডিওতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম জানিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর সমস্যার কথা জানান তিনি। চিকিৎসক তখন হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক বলেন, “আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ‘ভাই’ বলে ডাকেন, আবার তার ফোন নম্বর চান?”—এমন মন্তব্য করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান বলেন, “আমি আমার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসার আশায়। চিকিৎসককে যথাযথ সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু ‘ভাই’ বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে নম্বর চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ, মানবিক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ইউ