জলঢাকায় শখের বশে লটকন চাষে অর্থনৈতিক সফলতা

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলবাড়ী গ্রামের ৩নং ওয়াডে বাণিজ্যিক ভাবে হচ্ছে লটকন চাষ । বাগানের মালিক কৃষক নওশাদ আলী । তিনি গত ৫বছর আগে দুইটি লটকন বাগানের চাষ করে ।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লটকন বাগানে ঢুকলে দেখা যায়, প্রায় দুইশোটি গাছের গোড়া থেকে উঁচু ডাল পর্যন্ত ধরে আছে থোকায় থোকায় পাকা লটকন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন লটকন বাগান করতে আগ্রহী।
বাগানে থাকা এ লটকন দেশে সমাদৃত। ইংরেজিতে ‘বার্মিজ গ্রেপ’ নামে পরিচিত হলেও আমাদের দেশে এ ফলটি লটকন, বুবি, বুগি, লটকা, লটকো, নটকো ইত্যাদি নামে পরিচিত।
কৃষক নওশাদ আলী জানান, তার পতিত জমিতে অল্প কিছু লটকনের গাছ লাগিয়েছিলেন। শখ করেই দুইশো ৫০টি লটকন গাছ দিয়ে ছোট পরিসরে বাগান করেছিলেন তিনি। বাজারে লটকনের চাহিদা এবং দাম ভালো থাকায় অর্থনৈতিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন ।
তিনি আরও জানান, এ বছর ৩লাখ টাকায় জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মৌসুমী ফল ব্যববসায়ীদের কাছে লটকন বাগানটি বিক্রি করেছেন,যে বাগানটি পরিমাণ ৪০শতাংশ। এতে তার কোনো খরচ নেই। বিভিন্ন এলাকার পাইকার বাগানে এসে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বিক্রির কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না তাদের।
জানা গেছে, ১০-১৫ বছর আগেও লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। সে জন্য কেউ লটকনের আলাদা বাগান করার চিন্তা করতেন না। বর্তমানে টক-মিষ্টি সুস্বাদু এ ফলের চাহিদা ও মূল্য দুটিই বেড়েছে। এমনকি অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় লটকনের ফলন বেশি হয় বলে চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন।
গুণগত মানভেদে লটকন মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছেন মৌসুমী ফল ব্যববসায়ীরা। পাইকাররা নিজেরাই বাগান থেকে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান জানায় , লটকন উৎপাদনে এখানকার মাটি খুবই উপযোগী। লটকন চাষে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কম। এখন অনেক কৃষক লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
মার্চ মাসের দিকে লটকন গাছে ফুল আসে এবং ফল পরিপক্ব হতে চার-পাঁচ মাস সময় লাগে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে লটকন বাজারে পাওয়া যায়।
এছাড়াও পরিত্যক্ত বা বাঁশ ঝারের ফাঁকা স্থানে নটকো বা লটকন চাষ বেশ লাভজনক। কম খরচে এর চাষ করা যায় । এই ফলের রোগবালাই কম, আর এটি লাভজনক ফল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলটিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ। ভিটামিন-সি’তে ভরপুর উপকারী এ ফলটি প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখার পরামর্শও দিয়ে থাকেন অনেকে।
ইউ

মোঃ ছানোয়ার হোসেন বাদশা,জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







