বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৩,৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার একটি বিশাল চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এই বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা বন্দর থেকে অবৈধভাবে পাচার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ ‘আরাফাত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'কোয়ার্টজ পাউডার' ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল 'হায়দার অ্যান্ড সন্স' নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

সন্দেহ হওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা ল্যাব পরীক্ষায় চালানটিতে ১৩ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পান, যার মধ্যে ৩,৬৭৫ কেজিই ছিল ভায়াগ্রা। বর্তমানে জব্দকৃত এই চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে রাখা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯ সালের মে মাসে 'বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ'-এর মাধ্যমে 'সোডিয়াম গ্লাইকোলেট' ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা আরও ২,৭০০ কেজি ভায়াগ্রার একটি চালান বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।

সম্প্রতি বন্দর থেকে কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগে ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ও অসাধু সিন্ডিকেটের যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আসা ভায়াগ্রার এই চালানটিও বন্দর থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

কাস্টমসের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানিয়েছেন, ৩২ ও ৩৪ নম্বর শেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ‘আল-আরাফা’ এবং বন্দরের নিজস্ব গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, "এ ধরনের ক্ষতিকারক মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই চক্রের সাথে জড়িতদের শুধু শাস্তি নয়, সহযোগীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর অপকর্মের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা বন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও বারবার এমন নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঘটনায় বন্দরের নজরদারি ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ইউ