খাগড়াছড়িতে বন্যা ও পাহাড়ধস/সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জনজীবন বিপর্যস্ত

ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির জনজীবন। নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজার সংলগ্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সাথে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই এসব রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
টানা বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বারবার সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের সহায়তায় জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২৫টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে।”
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেএস

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










