ফের বন্যার শঙ্কায় ফেনী/আতঙ্কে নদীতীরবর্তী মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকোতেই আবারও বন্যার আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন ফেনীর মানুষ। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে জেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে সীমান্তবর্তী ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ফেনীর বাসিন্দারা গত বছরের আগস্ট মাসের সেই ভয়াবহ বন্যার কথা এখনো ভুলতে পারেননি, যখন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল এবং তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেদিনের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা মনে করে স্থানীয়রা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী কুসুম বেগম বলেন, “ঋণ করে নতুন করে ঘর তুলেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির ধারা দেখে মনে হচ্ছে আবারও সেই ভয়াবহ দিনগুলো ফিরে আসছে।”
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৩ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফেনীর নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করানোর জন্য যথেষ্ট। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, নদীগুলোর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে এই তিন উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের দাবি, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।
জনসচেতনতা ও প্রস্তুতি
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার এখন থেকেই শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ মজুত করা শুরু করেছেন। পাশাপাশি গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে, কেননা বৃষ্টির বেগ কমার কোনো লক্ষণ এখনো নেই।
জেএস











