রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের আগে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
পদত্যাগ বিষয়ে স্পিকারের বক্তব্য
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত আলোচনাকে 'অনুমাননির্ভর' উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা যে রকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। উনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে... এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।”
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেবেন এবং এর পরবর্তী ৯০ দিন বা তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্পিকার আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা তার পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যক্তিগত কাজ ও চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা
নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে স্পিকার বলেন, তার ২৬ জুলাই ফেরার কথা ছিল। তবে ব্যক্তিগত কাজ ও মেডিকেল চেকআপ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ায় তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরে আসেন। প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানসমূহ
অনুচ্ছেদ ৫০(৩): রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।
অনুচ্ছেদ ৫৪: রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুচ্ছেদ ১২৩(১): রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জেএস