কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকায় মরদেহগুলো বিকৃত ও গলিত অবস্থায় ছিল, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) এবং বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও বাহারছড়ার রাজারছড়া সৈকতে মরদেহগুলো ভেসে আসে।
বুধবার সকালে ঘোলাপাড়া সৈকত থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরনের পোশাক দেখে এটি কোনো রোহিঙ্গা নারীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুপুরে পশ্চিম সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ছিল অর্ধগলিত এবং মাথা বিচ্ছিন্ন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরদেহটি হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বিকেলে বাহারছড়ার রাজারছড়া সৈকত থেকে আরও একটি কঙ্কালসার বা হাড় জিরজিরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটিও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবি কিংবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে আসার পথে কোনো নৌকাডুবিতে এসব নারীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কুতুবদিয়া উপজেলা সদরের বড়ঘোপ এলাকায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় দেড় বছর বয়সী শিশু চয়নের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালের দিকে বাড়ির পাশে থাকা পুকুরে কোনো এক সময় শিশুটি পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাকে না পেয়ে পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে এমন রহস্যজনক মৃত্যু ও করুণ দুর্ঘটনার খবরে জনমনে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
জেএস