২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নরওয়ে ফুটবল দল। মায়ামিতে হোটেলের পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণে বাধ্য হয়েই টুর্নামেন্টের মাঝপথে আস্তানা বদল করতে হলো আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডদের।

মায়ামির যে হোটেলটিতে নরওয়ে দল অবস্থান করছিল, সেখান থেকে ফুটবলারদের অনুশীলন ক্যাম্পে যাতায়াত করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল।

এছাড়া বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল হোটেলের ঠিক পাশেই একটি নির্মীয়মান বহুতল ভবন। সেখান থেকে আসা অনবরত নির্মাণকাজের শব্দে ফুটবলারদের ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছিল। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করতেই মূলত এই হোটেল বদলের সিদ্ধান্ত।

হোটেল পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড জানান,"হোটেলের পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে আমরা প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাই না। নতুন জায়গার পরিবেশ ও সুবিধা বেশ ভালো, তাই দলের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

তবে ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন দলের লজিস্টিক্স ম্যানেজার ট্রুলস ডায়েহলি। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে হোটেল বদল করা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ফুটবলারদের চাওয়াকে তারা প্রাধান্য দিয়েছেন। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পুরো দল নতুন হোটেলে সাফল্যের সাথে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ফিফাও তাদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, নরওয়ে দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে দলের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেন এই খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট জানান, বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত ছড়ানো হচ্ছে এবং দলের সবাই ফিট আছেন। কারও সামান্য সমস্যা হলেও তা দেখার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ফিজিও প্যানেল নিয়োজিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় সপ্তাহ কাটিয়ে ফেলার পর, এটিকে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ হিসেবে দেখছে দল। তাই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে অনুশীলনে এবং বিশ্রামে কোনো ধরণের কমতি বা ঝুঁকি রাখতে চাইছে না হালান্ড বাহিনী।