হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডি: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের 'শূন্য সহিষ্ণুতা' নীতি পুনর্ব্যক্ত

হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি : সংগৃহীত
সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের জন্য বাংলাদেশে কোনো জায়গা নেই বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার (১জুলাই) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঢাকা নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শিক কারণে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। হলি আর্টিজানের সেই রাতকে তিনি জাতির ইতিহাসের অন্যতম ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিরা নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ওই হামলাটি ছিল বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজে ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। কিন্তু এই ট্র্যাজেডির মুখে বাংলাদেশ অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো তার বক্তব্যে এই ধরনের নৃসংশ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ জঙ্গি ভয়াবহ হামলা চালায়। প্রায় ১২ ঘণ্টার এই জিম্মি সংকটে মোট ২০ জন নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া জিম্মিদের উদ্ধারের প্রস্তুতিকালে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং সালাহউদ্দিন খান নিহত হন। পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ অভিযানের মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে, যেখানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।
জেএস

Destiny Reporter
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.






