চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেফতার, ভারতে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

ছাব: সংগৃহীত
ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে তাকে ও তার সহযোগীদের চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে যশোর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের মোট ৯টি দল যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। যশোর-ঢাকা মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোরে এসেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরে চট্টগ্রামের কুখ্যাত সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন। পরবর্তীতে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান। পরে দুবাইয়ে অবস্থান করেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় ডিডিএন (DDN) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপ কলে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর র্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্রধারী একটি দলকে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়।
এর আগে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে এবং তাকে গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় অবশেষে যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Destiny Reporter
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











