কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা, সতর্ক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন বাহিনীর সাথে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে ইরান বুধবার (১৫ জুলাই) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পর উভয় দেশেই সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের ‘অপারেশন নসর-২’-এর তৃতীয় ধাপ। মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইরানের কিশ ও কেশম দ্বীপে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর ইরান এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। আইআরজিসি-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলায় বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রাগারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন মোতায়েনের র্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, “যতদিন আমেরিকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম চলবে, ততদিন এই প্রতিশোধ চলতে থাকবে।” তেহরান আরও হুমকি দিয়েছে যে, যতক্ষণ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করার লক্ষ্যে ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছেন এবং এই অঞ্চলে যেকোনো মূল্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তেহরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা শহরে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইসরায়েলের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে, আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় তা দ্বিগুণ শক্তিতে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত গত সপ্তাহে নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা এই লড়াই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
কুয়েত ও বাহরাইন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের শান্ত থাকা এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










