হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা/ইরানে টানা তৃতীয় রাতের মতো মার্কিন হামলা

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে টানা তৃতীয় রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক দেশটিতে পুনরায় নৌ-অবরোধ ঘোষণা এবং জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই এই হামলা আরও তীব্র হলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সোমবার রাতের হামলায় ইরানের উপকূলরক্ষী ঘাঁটি, রাডার স্টেশন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশ এবং বন্দর আব্বাসসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলোতে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা গেছে। ওমিদিয়া শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি ঘোষণা করেছেন, এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি কার্গো জাহাজকে নিরাপত্তার বিনিময়ে ২০ শতাংশ হারে অর্থ প্রদান করতে হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে যে, গত ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আগামী ৬০ দিন ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযানের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ করেছেন।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথ দ্রুত প্রশস্ত না হলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই উত্তেজনার ফলাফল পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরও ভয়াবহ হতে পারে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











