মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে বিমান হামলার জবাবে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৯জুলাই) সকাল থেকে এসব এলাকায় ইরান সমর্থিত বাহিনীর মিসাইল ও ড্রোন তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের মিসাইল আঘাত হেনেছে। এছাড়া বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।
হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি সাইরেন বাজিয়ে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় এই হামলা তুলনামূলক কম তীব্র বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জুনে স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত ৮ জুলাই (বুধবার) আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা জোরদার করে।
এর জবাবে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, গতরাতে ইরানের গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুজ মিসাইল হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নতুন সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দামকেও প্রভাবিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন সামরিক হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন, অন্যদিকে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী না করার বিষয়েও মিশ্র বার্তা দিচ্ছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার দাবি জানিয়েছে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










