ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফনের প্রস্তুতি, হবে ছয় দিনব্যাপী আয়োজন

ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী এই শোক ও দাফন কর্মসূচি ইরান এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকের পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
শনিবার, ৪ জুলাই: তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে জানাজার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হবে।
সোমবার, ৬ জুলাই: তেহরানের রাস্তায় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
৭ জুলাই: মিছিলটি পবিত্র শহর কোমে পৌঁছাবে।
৮ জুলাই: অনুষ্ঠানের একটি অংশ অনুষ্ঠিত হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে।
৯ জুলাই: চূড়ান্ত পর্যায়ে খামেনির লাশ তার নিজ শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা:
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আয়োজনে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষের সমাগম হতে পারে। সম্ভাব্য বিশাল জনসমাগম সামলাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রায় ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারা এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ইতোমধ্যে এই অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তজনা ও পরিবর্তনের সূচনা করে। তার মৃত্যুর পর থেকেই ইরানে ৪০ দিনের শোক ও সাত দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটির ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির সরকার।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.






