যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫০ বছরের পুরনো বিধান বাতিল করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। মূলত অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রাপ্তি ঠেকাতেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তার এই সিদ্ধান্তকে সংবিধানসম্মত মনে করেননি।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী কিংবা অস্থায়ীভাবে অবস্থান করা বাবা-মায়ের সন্তান যদি দেশটির মাটিতে জন্ম নেয়, তবে সংবিধান অনুযায়ী তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই রায়ে তিনি সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। গৃহযুদ্ধের সময় গৃহিত এই সংশোধনীটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী মুক্ত মানুষদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৫০ বছরের পুরনো এই আইন বাতিলের পক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তেমন জোরালো সমর্থন ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসন ইস্যুতে নতুন কৌশল নির্ধারণের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প হয়তো এখন অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দেবেন, যাতে দেশটির মাটিতে প্রবেশই সীমিত করা যায়।

জেএস