প্রকৌশলীকে কঠোর ভাবে নির্দেশনা প্রদানঠাকুরদীঘি-জঙ্গল পদুয়া সড়কের বেহাল দশা

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঠাকুরদীঘি জঙ্গল পদুয়া সড়ক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। গর্ত বেশি থাকার কারণে এলাকার লোকজন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও গাড়ি চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সড়কটি টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার পরেও ঠিকাদার কোনো কাজ করেননি। ফলে সড়কটির টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ঠাকুরদীঘি-জঙ্গল পদুয়া সড়কটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষের চলাচল, শত শত গাড়ি চলাচল করে। চলাচল করে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা। সড়কে ভারী বর্ষণের কারণে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি বান্দরবানগামী যাতায়াতের।
সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে গাড়িতে করে নেওয়ার পথে সড়কের মাঝে গাড়িতেই ডেলিভারি হয়ে যায়, আবার অনেক গর্ভবর্তী মহিলার অনেক কষ্টে যেতে হচ্ছে হাসপাতালে।
ঠাকুরদীঘি-জঙ্গল পদুয়াগামী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি বান্দরবানগামী যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংস্কারের অভাবে এখন এটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছেন যানবাহন চালক, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যান।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায়।
গত বছরের ২ ডিসেম্বরে কার্যাদেশ দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাজটি করেননি ঠিকাদার। আবছার কন্সট্রাকশন কাজ পায়। ভোটের দোহাই দিয়ে কাজ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঈদের পরে কাজ শুরু করার কথা থাকলে অপারগতা প্রকাশ করে।
ঠিকাদার তালবাহনা শুরু করায় একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে চিঠি প্রদান করেন। কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ায় কাজটি বাতিল করা হয়। তারপর রি-টেন্ডারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
টেন্ডার বাতিল হওয়ার পরেই সড়কটি নতুনভাবে পুনঃ টেন্ডারের জন্য পরিমাপ করতে যান উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ। জঙ্গল পদুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উত্তর পদুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ও মামুন মাহমুদ বলেন, সড়কটি ৩০ বারের বেশি পরিমাপ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সড়কটি দিয়ে চলাচলে আতংকে থাকতে হয়। দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিক উদ্দীন বলেন, 'সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সম্প্রতি বন্যা হওয়ায় সড়কের গর্তগুলো বড় পরিসরে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার জরুরি।' শিক্ষার্থীরা জানান, সড়কটি দিয়ে চলাফেরা বড় দায়। বাড়ি থেকে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সময় গর্তের পানি ছিটকে পড়ে কাপড় চোপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল হক আমান মেম্বার বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ জীবন-জীবিকার অর্জনের জন্য যাতায়াত করে, শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায়। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে ঠিকাদার অপারগতা প্রকাশ করায় টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুনভাবে পুনঃ টেন্ডারের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করলে এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ঠাকুরদীঘি জঙ্গল পদুয়া সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। যার কারণে বেড়েছে দুর্ভোগ। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির আওতায়) এই সড়কটি।
বিগত ২৫-২৬ অর্থবছরের মালামালের দাম বৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারের অপরাগতা প্রকাশ করায় আমরা টেন্ডারটি বাতিল করেছি।
নতুনভাবে ২৬-২৭ অর্থবছরের পল্লি সড়ক সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রাক্কলন কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। জেলা অফিসে দ্রুত মিটিংয়ের মাধ্যমে এগুলো অনুমোদন করা হবে। আমরা খুবই আশাবাদী, এ বছরের মধ্যে সড়কটি অনুমোদন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে, কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বায়োজিদ- বিন -আখন্দ বলেন, ঠাকুরদীঘি জঙ্গল পদুয়া সড়কের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সড়কটি দিয়ে জঙ্গল পদুয়া এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সড়কের ভয়াবহ অবস্থা দেখেছি । তাই সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে রি-টেন্ডার করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে কঠোর ভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ইউ

রুশমী আক্তার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.







