পিকআপ নিয়ে চুরি-ডাকাতিনওগাঁ আন্তঃজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার: উদ্ধার ৫ চোরাই গরু

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গরু চুরির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গরু চোর ও ডাকাত চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দুই দফা অভিযানে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি চোরাই গরু।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বগুড়া ও নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নওগাঁর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় র্যাবের সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও রাণীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে গোলাম রাব্বানী (৩৯), নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ নয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছি উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তার নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১৪ জুলাই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই রাতে বগুড়া র্যাবের সহায়তায় কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার ও সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুইজন সম্পর্কে শালা-দুলাভাই।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, উপজেলার গোনা এলাকায় দুটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে একটি পিকআপ ভ্যান শনাক্ত করা হয়। সেই পিকআপকে সূত্র ধরেই কয়েকদিন ধরে অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় তিনজন এবং পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাত চক্র। চক্রটির সদস্য সংখ্যা আটজন। তারা একটি পিকআপ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করত এবং সুযোগ বুঝে গরু চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটাত। দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও দুই সদস্য পলাতক রয়েছে; তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। চুরি হওয়া গরুর মালিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ, নাটোর, ময়মনসিংহ ও বগুড়াকেন্দ্রিক কয়েকজন কুখ্যাত গরু চোর মিলে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে গরু চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। নাটোরে গ্রেপ্তার সুজিত ও সুচন্দন এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে কিছুদিন নিজেদের হেফাজতে রেখে পরে বিক্রি করে দিত। নওগাঁয় গরু চুরির ঘটনায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফার অভিযানে মোট ছয়জন কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ গরু। তাই গরু চোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ইউ

শহিদুল ইসলাম, নওগাঁ প্রতিনিধি
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








