পানিবদ্ধ নড়াইলের তিন পৌরসভায় দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে নড়াইল জেলার তিনটি পৌরসভা—নড়াইল, লোহাগড়া ও কালিয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সরকারি কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানিবন্দি মানুষ চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর, আলাদাতপুর, মহিষখোলা, ভাদুলিডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, ভওয়াখালী, বাহিরডাঙ্গা ও বরাশুলাসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি জমে গেছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় অনেক পরিবারে চুলা জ্বালা বন্ধ। টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। ভিজে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লোহাগড়া ও কালিয়া পৌরসভার চিত্রও একই। লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা, কলেজপাড়া, সরকারপাড়া ও মোচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। কালিয়া পৌরসভার ব্যস্ততম ‘কলেজ রোড’ সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক খাল ও জলাশয় ভরাট এবং দখলই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত। চিত্রা নদী এবং পৌরসভার বিভিন্ন খাল ভরাট ও সংকুচিত হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল কবির টুকু জানান, বাসায় পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুরা কষ্টে আছে। প্রতি বছর একই দুর্ভোগ পোহালেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
নড়াইল পৌর প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “টানা অতিবর্ষণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এর মূল কারণ। তবে আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার টিম কাজ করে যাচ্ছে।”
লোহাগড়া পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে পানি অপসারণের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।
জেলার সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল সাময়িক পানি সেচ নয়, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণই এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জেএস

Narail Correspondent
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










